সর্বশেষ আন্তর্জাতিক রাজনীতি অর্থনীতি দেশ

সারাদেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল শুক্রবার প্রায় সারাদিন বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেন তিনি।

একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ শনিবার তিনি ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি চট্টগ্রামে যাচ্ছেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি-ডাকাতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ

ভারী বর্ষণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি প্রধান পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন:

  1. সার্বক্ষণিক মনিটরিং: প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং তাঁর কার্যালয় থেকে নিয়মিত ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

  2. আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন: চট্টগ্রাম বিভাগে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

  3. নগদ ও খাদ্য সহায়তা: জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩,৪৫০ টন চাল দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

  4. জরুরি রসদ সরবরাহ: দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

  5. সেনাবাহিনী মোতায়েন: পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

  6. জনপ্রতিনিধিদের মাঠে অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন।

  7. যৌথ উদ্ধার অভিযান: প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে।

  8. এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত: ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

  9. ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন: দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।

  10. রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধি ও স্থায়ী আবাসন: পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।

"প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন। জনগণের সরকার সব সময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে এবং আমরা দ্রুতই এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠব।" — মাহদী আমিন, মুখপাত্র, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আর্তমানবতার সেবায় এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আরও পড়ুন...

জনপ্রিয়

সর্বশেষ খবর