সর্বশেষ আন্তর্জাতিক রাজনীতি অর্থনীতি দেশ

সরল আলাপ

নবীজীকে নিয়ে লিখতে পারাই আমার শ্রেষ্ঠ কাজ : জিয়াউল আশরাফ

  • জিয়াউল আশরাফ। একজন লেখক, শিশুসাহিত্যিক ও সংগঠক। মাদরাসা থেকে ‘মাওলানা’ খেতাব অর্জন করেছেন। সম্পাদনাকে বানিয়েছেন পেশা। লিখেছেন অনেক গ্রন্থ। তার জন্ম জামালপুরের মেলান্দহে। বর্তমানে তিনি শিশু-কিশোরদের জাতীয় পত্রিকা মাসিক নকীব-এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের সহসভাপতি তিনি। শূন্যদশকের আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাহিত্য সংগঠন শীলন বাংলাদেশ -এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। গেল দুই যুগ ধরে তিনি লেখালেখি করছেন। সময়ের তরুণদের তিনি ছাড়িয়ে গেছেন বলে জানা যায়। এ সময় তিনি ছড়া, গল্প ও গবেষণাবিষয়ক লেখালেখি করছেন। সম্প্রতি তিনি দেশ সেরা সাহিত্য পুরস্কার নকীব পদক লাভ করেছেন। আজ গুণী এই লেখকের মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের প্রতিবেদক আদিব সৈয়দ। সরল আলাপের গুরুত্বপূর্ণৃ অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম।

জিয়াউল আশরাফ : ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

প্রশ্ন : কেমন আছেন?

উত্তর : আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।

প্রশ্ন : আপনি লেখক না সম্পাদক? কোনটায় স্বাচ্ছন্দবোধ করেন?

উত্তর : সময়ের চাহিদায় লেখক, সম্পাদক দুটি শব্দই ধারণ করতে হয়। দুটিতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করতে হয়। তবে লেখালেখি বা লেখক এটা আমার হুদয়ের সাথে সম্পৃক্ত। আর সম্পাদনা শত তরুণের সৃষ্টিশীলতা জাগণের মাধ্যম। তাই সম্পাদনাকে আমি পেশা ও আগামীদিনের সৃজনশীল তারুণ্য তৈরির কর্ম হিসেবে করি।

প্রশ্ন : কীভাবে লেখালেখিতে এলেন? কী প্রেরণা কাজ করেছে?

উত্তর : ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো লেখক হবো। সৃজন ও সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি আগ্রহ ছিলো। কিন্তু প্রশিক্ষণ ও প্রেরণার জগৎ ছিলো না। শূন্য দশকে যখন ঢাকায় আসি-পড়াশোনা করতে, ভর্তি হই শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কুরআন মাদরাসা, চৌধুরীপাড়া- ঢাকায়। তখন পেয়ে যাই একঝাক লেখক, মাসউদুল কাদির, শামস আরিফিন, সায়ীদ উসমানসহ অনেককে। শুরু হয় সাহিত্য সভায় অংশ গ্রহণ।

মাদরাসার প্রিন্সিপাল শহীদ আল্লামা ইসহাক ফরিদী রহ. কে দেখে প্রেরণা স্বপ্ন বেড়ে যায় বহুগুণ। আর বন্ধুবর প্রিয় লেখক মাসউদুল কাদির এর আন্তরিক সহযোগিতায় পথচলা হয় গতিময়। সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন শীলন বাংলাদেশ আমাদের পৌঁছে দেয় শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির এক আলোময় দিগন্তে।

প্রশ্ন : এ পর্যন্ত কী বই প্রকাশিত হয়েছে? কোন বইটিকে আপনি নিজের বই বলবেন?

আমার লেখালেখি খুব কম। সম্পাদনা ও তরুণদের নিয়ে কাজ অনেক। তাই বই সংখ্যাও কম। আমার প্রকাশিত বই ছয়টি।

পাখিডাকা ভোর, জঙ্গল বাড়ি রহস্য, বায়তুল্লাহর পথে স্বপ্নের সফর, মদীনার কিশোর, আজানের সুর ও শিশুদের প্রিয় নবী।

ছয়টি বই-ই আমার নিজের। নিজের মতো করে লেখা। নিজের ঢঙ্গে লেখা। আমার বইগুলো খুব যতœসহকারে লেখা। তবে বলতে পারি-শিশুদের প্রিয় নবী আমার শ্রেষ্ঠ আনন্দ তৃপ্তি। আর পরম মমতা দিয়ে লিখেছি, প্রতিটি শব্দ চয়নে সতর্ক থেকেছি। প্রিয় রাসূল সা. কে নিয়ে দুকলম লিখতে পেরেছি এই জীবনের সার্থকতা।

প্রশ্ন : লেখালেখির জন্য কোর্স বা সংগঠন করা জরুরি? আপনি কোনটাকে প্রাধান্য দেবেন?

উত্তর : হ্যাঁ, জরুরি। এখানে কোন যদি কিন্তু নেই। কেউ কেউ লেখক হয়ে যেতে পারে কোন কিছু না করেই। তারা আমাদের নমুনা নয়। সাহিত্য কোর্স, সংগঠন আপনার চিন্তার দরজাকে খুলে দেয়। বৈচিত্র্যকে ধারণ করার ক্ষমতা দেয়। দিগন্ত বিস্তৃত পৃথিবীকে পাঠ করার উৎসাহ দেয়। প্রেরণা দেয়। চিন্তার আদান প্রদান হয়। প্রশিক্ষণ ছাড়া চর্চা শুদ্ধ -পরিশুদ্ধ হয় না।

প্রশ্ন : আলেমদের ছড়া কিংবা কবিতা চর্চা করাটা জরুরি কেন? আলেম হয়েও আপনি ছড়া লিখছেন? ছড়াসাহিত্য নিয়ে কাজ করছেন। আপনি কি মনে করেন গত বিশ বছরে কোনো পরিবর্তন এসেছে?

উত্তর : কারো জন্যই কোন কিছু জরুরি নয়। আপনাকে কোথাও না কোথাও স্টাবলিস্ট হতে হবে। কোন না কোন বিষয়ে মাহের-দক্ষ হতে হবে। ছড়া সাহিত্যের প্রাণ-বিশেষ করে শিশু সাহিত্য। ছড়া-কবিতা পাঠ আপনার সাহিত্যের গভীরতা দান করবে। আর আমি ছড়া লিখি-শিশু সাহিত্য চর্চা করি। কারণ, আপনি পৃথিবী নির্মাণ করতে পারবেন, চোখধাঁধানো হাজারো কাজ করতে পারবেন, কিন্তু যদি শিশুদের জন্য কাজ না করেন তবে আপনার সব কিছু ব্যর্থ হবে। শিশুদের গঠন করার জন্যই ছড়া-গল্প তথা শিশু সাহিত্য চর্চা করা খুব জরুরি।

প্রশ্ন : আপনার লেখালেখির বড় অংশ শিশুসাহিত্য? আপনি কি মনে করেন এখনকার সমাজ শিশুদের স্পেস দিচ্ছে? পর্যাপ্ত শিশুসাহিত্য নিয়ে কাজ হচ্ছে?

উত্তর : সমাজ স্পেস দিচ্ছে না, শিশু সাহিত্য নিয়ে কাজ হচ্ছে না। যতটুকু দিচ্ছে বা হচ্ছে তা পর্যাপ্ত না। আমাদের বড়রা, সম্পদশালীরা শিশু সাহিত্য বুঝে না, বুঝতে চেষ্টা করে না। আমাদের বড়রা শিশুদের নিয়ে ভাবে না-আগামীর স্বপ্ন দেখে না।

প্রশ্ন : নতুন করে ইসলামী অঙ্গনে তারুণ্য ভাবনার আলোচনা তুঙ্গে। আপনি কি মনে করেন জুলাই আন্দোলনের পর তরুণরা তাদের পথ আবিষ্কার করে নিতে পেরেছে?

উত্তর : তারুণ্য এখন জেগে উঠেছে। তারা নিজেরা চিন্তা করতে পারে। নিজ নিজ ঠিকানাও বের করতে পারে। তবে তা সৃজনশীল নয়। পুরোনো বন্দোবস্ত। জুলাই আন্দোলন আমাদের শিশু ও তরুণদের পথ দেখাতে পারেনি।

প্রশ্ন : একজন নতুন উদীয়মান লেখককে আপনি কী পরামর্শ দেবেন?

উত্তর : পড় পড় এবং পড়। সাহিত্য সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করো। পৃথিবী যে দিকেই যাক এসো আমরা স্বপ্ন হই ও আগামীর স্বপ্নদের পরিচর্যা করি।

প্রশ্ন : সম্প্রতি আপনি নকীব পদক লাভ করেছেন? পদক লাভে কি আপনার দায়িত্ব বেড়ে গেলো না?

উত্তর : দায়িত্ব সব সময়ই অনেক বেশি। নকীব পদক প্রাপ্তি অবশ্যই দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের তরুণদের কাছে আমি দায়বদ্ধ-তাদের জন্য আমি আমার সাধ্যের সবটুকু করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন : আপনার পদ আর কাজবাজ নিয়ে এখানে কিছু লিখুন?

উত্তর : পদ অনেক বড় বিষয়। তবে দায়িত্বটা আমার। আমার দায়িত্ব আমি জাতীয় শিশুকিশোর পত্রিকা মাসিক নকীবের সম্পাদক। সম্পাদক বললে কি কি কাজ তা সবাই বুঝেন। নবীনদের লেখা কাট আর ছাট। কারো লেখা ছাপা না হলে সম্পাদকের উপর মন খারাপ। এই তো। পাশাপাশি নিজের কাজ, ঘর-সংসার, ছড়া কবিতা, গল্প প্রয়োজনের তাকিদে প্রবন্ধ নিবন্ধও লিখতে হয়। তবে শেষ কথা লিখি বা না লিখি আমি শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই। শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে চাই। বাংলা ভাষায় শিশু সাহিত্যের সুন্দর ও উজ্জল নির্মাণশৈলি তৈরি করতে চাই।

আরও পড়ুন...

জনপ্রিয়

সর্বশেষ খবর