চরমোনাইর পীর সাহেবের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
গতকাল (২৮ নভেম্বর) চরমোনাই-এর মাহফিলে আত্মশুদ্ধির প্রোগ্রামে ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সম্পর্কে যেই অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন সেটির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত একটি যৌথ বিবৃতিতে দলের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক,সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পীর সাহেবের বাস্তবতাবিবর্জিত এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ পদ হতে পীর পরিচয় বহন করে এই রকম নির্জলা মিথ্যাচারে আমরা বিস্মিত ও বেশ হতবাক হয়েছি।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেছেন, সমমনার ফোরামে কোনোরকম আলোচনা ব্যতীত ইসলামী আন্দোলন যখন পিআর ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসে ও এ দাবীতে সমমনার কনসেপ্টের বাইরে গিয়ে যখন তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক দল অপর দলের সঙ্গে মিলে প্রোগ্রাম করে, তখন হতে জমিয়ত সমমনার লিয়াজোঁ কমিটির মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকে। কারণ পিআর আর এক বাক্স ফর্মুলা একটি অন্যটির সঙ্গে সম্পূর্ণ রূপে সাংঘর্ষিক। বিএনপি অথবা জামায়াত কোনো দিকে ধাবিত না হওয়ার সিদ্ধান্ত থাকার পরেও সমমনার ফোরামে কোনো রকম আলোচনা ও ফয়সালা ব্যতীত এ পিআর ইস্যুতে এক দলের দলীয় প্রোগ্রামে অপর দলের সদলবলে অংশগ্রহণকে আমরা আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা বলে মনে করেছি, যার কারণেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হওয়া হতে আমরা বিরত থেকেছি। এর পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ কালভার্ট রোডস্থ খেলাফত মজলিসের অফিসে অনুষ্ঠিত লিয়াজোঁ কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে আমরা অংশগ্রহণ করেছি, এরপরের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশের পরে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির অফিসে, সে বৈঠকে আমরা কেউ উপস্থিত হইনি। সুতরাং এ বাস্তবতার পরেও ধর্মীয় মাহফিলের ভাবগাম্ভীর্যের কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে একজন দলীয় প্রধানের এরূপ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান জাতির সঙ্গে দস্তুরমত তামাশা করার সামিল ও এইটা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণও বটে।
জমিয়ত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে তবে এরূপ অবাস্তব ও অসত্য কথা বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিক্ত অবস্থা তৈরি করা একদম কাম্য নয়। দেশের মানুষ জানে যে, হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর নির্বাচন হতে শাপলা ট্রাজেডি অবধি ঐতিহাসিক ভাবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ অতীতে ঐক্যের প্রশ্নে ঠিক কতটা আন্তরিক ছিল? এবং কে কতটা অনাগ্রহী ছিল?
স্বাধীনতার বার্তা / মেবি
