সর্বশেষ আন্তর্জাতিক রাজনীতি অর্থনীতি দেশ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর সিনজিলে ক্রমবর্ধমান ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। রাতভর পাহারা, সার্চলাইট দিয়ে আশপাশের পাহাড় নজরদারি এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।

জুন মাসের এক রাতে প্রায় ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী সিনজিলের একটি পাহাড়চূড়ায় অবস্থান নিয়ে আশপাশের উপত্যকাগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, কোনো সন্দেহজনক নড়াচড়া দেখা গেলেই দ্রুত শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করা।

স্বেচ্ছাসেবীদের একজন ফাদি আলওয়ান বলেন, "আমরা সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছি। সরকার-সমর্থিত বসতি স্থাপনকারীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের রক্ষার কেউ নেই। তাই নিজেদের শহর নিজেদেরই রক্ষা করতে হচ্ছে।"

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, হামলার সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ হয় দেরিতে আসে, নয়তো হামলাকারীদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করাই সেনাদের দায়িত্ব; আর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশের।

স্বেচ্ছাসেবীরা রাতভর শহরের চারপাশে টহল দেন। কেউ সার্চলাইট দিয়ে পাহাড়ি এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন, আবার কেউ গাড়িতে করে নজরদারি চালান। একই সঙ্গে স্থানীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সম্ভাব্য হামলার খবর দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

আলওয়ান জানান, হামলাকারীরা বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে এলে স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সবাইকে সতর্কবার্তা পাঠান।

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে গম কাটতে গেলে এক বসতি স্থাপনকারী কাঁটাযুক্ত লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন। গত বছর স্বেচ্ছাসেবীদের পাহারার তাঁবুতেও গুলি চালানো হয়েছিল। পরে ইসরায়েলি সেনারা এসে সেই তাঁবু সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রামাল্লাহ ও নাবলুসের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অবস্থিত সিনজিল শহরের চারপাশে একাধিক ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্ট রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, শহরের পাঁচটি প্রবেশপথের মধ্যে চারটি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। পাশাপাশি একটি ধাতব দেয়াল নির্মাণ করে প্রায় দুই হাজার একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে শহরটিকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

সিনজিল পৌরসভার প্রধান মোয়াতাজ তাওয়াফশা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে পৌর কর্তৃপক্ষই স্থানীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়েছে।

তার ভাষায়, "আমাদের মনে হয় যেন আমরা একটি সম্মিলিত কারাগারের মধ্যে বসবাস করছি।"

তাওয়াফশার দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি শহরের জমিতে বসবাসকারী শতাধিক বেদুইন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে শহরের কেন্দ্র থেকেও অন্তত ২০টি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ ফোকাহা জানান, প্রায় দুই বছর আগে তার বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করার সময় জানালা দিয়ে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারা হয়েছিল। এতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাহায্যের আবেদন করলে শহরের তরুণরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। যদিও শুরুতে ইসরায়েলি সেনারা তাদের বাধা দেয়, পরে তারা তার হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী বাবাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন।

ফোকাহা বলেন, "আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন। তারা না এলে আমাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারত।"

আরও পড়ুন...

জনপ্রিয়

সর্বশেষ খবর