ইরানি প্রতিনিধি দল আজই ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় জেদ আর তেহরানের একবার ‘না’, আরেক ‘হ্যা’ রাজনীতির এক নাটকীয় মোড় নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’র প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বলা হচ্ছে, মঙ্গলবারই ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে ইরানের প্রতিনিধিদল।
গত কয়েক দিন ধরে ইরান বারবার গলা ফাটিয়ে বলে আসছিল, তারা পাকিস্তানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনায় বসছে না। কিন্তু পর্দার আড়ালে যে অন্য খেলা চলছে, তা এখন স্পষ্ট। রোববার ইরানের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো সিএনএন’কে নিশ্চিত করেছে, মঙ্গলবারই একটি ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পা রাখছে। ট্রাম্প যে সংলপের জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তেহরান শেষ পর্যন্ত সায় না দিয়ে পারল না।
সূত্র মতে, গত রাউন্ডের সেই পরিচিত মুখগুলোই এবারও দর কষাকষির টেবিলে বসছেন। যার মধ্যে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। মূলত ঘালিবাফই এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যাকে নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কৌতূহলের শেষ নেই।
গালিবাফ কোনো সাধারণ রাজনীতিবিদ নন; তিনি স্বয়ং ইরানি শাসনের একদম অন্দরমহলের মানুষ। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় কিশোর বয়সেই যোগ দেন রেভোলিউশনারি গার্ডসে (আইআরজিসি)। পরবর্তী সময়ে তিনি আইআরজিসি’র বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে, তার পরিচিতি শুধু সামরিক পোশাকেই নয়, বরং ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালের ছাত্র বিক্ষোভ এবং ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরবর্তী গণআন্দোলন দমনে তার কঠোর ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত। তেহরানের মেয়র হিসেবে ১২ বছর দায়িত্ব পালন করে শহরের ভোল বদলে দিলেও, ভিন্নমত দমনে তার হাত যে কতটা শক্ত, তা কারোরই অজানা নয়।
