মধ্যপাড়ার ঘটনা
মালেকা বানু গুটিসুটি মেরে খাটের এক কোনো পড়ে আছেন। ভর দুপুরে গুমোট অন্ধকার। অজানা আতংকে আমাবস্যা নেমে এসেছে মধ্যপাড়ায় কাউছার মিয়ার ঘরে।
বাড়িওয়ালা বাড়ি নেই। আজ জল্লাদের হাত থেকে কে বাঁচাবে মালেকা বানুকে?
- এ শয়তান!
মালেকা বানুর পেট মুচড়ে বমি আসছে।
- টাকা দে।
-কাছে টাকা নেই।
-পয়দা করে দে শয়তান।
মালেকা বানু চুপ, কথা বাড়ালে বিপদ।
ও এখন মানুষের কাতারে নেই। মেলে পড়ে বরবাদ হয়েছে। তাই বলে এতদূর!
মালেকা বানু নিজের পেট হাতড়ে নিজেকে অভিশাপ দেয়।
-টাকা দিবি? নইলে ফ্যান নিয়ে গেলাম।
টাকা দিতে পারবি না তো জন্ম দিলি ক্যান? এত খাহেশ ক্যান ঐ মাগি!
মালেকা বানু জিহবায় কামড় দেয়। চোখ ভিজে আসে দুঃখে। হায়!যদি আমার জন্ম না হত! যদি সারাজীবন কুমারী থাকতাম! অথবা শয়তানটাকে জন্ম দেওয়ার সময় মৃত্যু হয়ে যেত। আরো ভালো হত জানোয়ারটাকে গলা টিপে মেরে ফেলতাম।
ঘরের আসবাবপত্র সব গেলা হয়ে গেছে। গরম থেকে বাঁচতে শেষ সম্বলটুটকুও বুঝি গেল।
সন্তানের টুকটুকে লাল চেহারাটায় মালেকা বানু একদা বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখতেন। গর্বের সাথে সবাইকে বলতেন,আমার ছেলে কিছু একটা হবে।
সত্যিই মালেকার ছেলে কিছু একটা হয়েছে। সকাল সন্ধ্যা মায়ের চোখ থেকে অশ্রু ঝরে ছেলের জন্য।
শয়তানটা কাচারি ঘরের ফ্যান খুলে নিয়ে গেছে সত্যি।
ও যা বলে তা করে দেখায়। যে মরণ নেশায় ডুবেছে সবকিছু ডুবিয়ে তারপর সে ক্ষ্যান্ত হবে।
মালেকা বানু মসজিদের মাইকে শোক সংবাদ শোনার অপেক্ষায় আরো একটি দিন পার করে দেয়।

0 মন্তব্য রয়েছে