আমরণ অনশন
আমরণ অনশন
আমরণ অনশন দাবী আদায়ের একটা উপায়।তবে হাতের বইটি বাইরের দুনিয়ার অনশন নয় বরং ভিতরে বইতে থাকা উত্তাল ঢেউয়ের বিরুদ্ধে অনশন।
যে ঢেউ কোটি কোটি বনী আদমকে নিঃস্ব সর্বশান্ত করেছে। অনেক ভেবেচিন্তে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে দানব শয়তান থেকে বাঁচতে আমি আমরণ অনশনের তত্ত্ব নিয়ে পাঠক সমীপে হাজির হয়েছি।
পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে শয়তান বনী আদমের জাত শত্রু। মানুষকে কে জাহান্নামে ফেলতে সে বিরাট বিরাট আস্তানা তৈরী করেছে। তন্মধ্যে
১) মদ ২) জুয়া ৩) নারী অন্যতম। দুনিয়ার যত বিশৃঙ্খলা তার সব এই তিনটিকে ঘিরে। পৃথিবীর প্রথম হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে সব আবর্তিত এগুলোকে কেন্দ্র করে। সূচনালগ্ন হতে শয়তান তার সাধ্যমতো সবকিছু করে গেলে ও বেগ পেতে হয়েছে। তবে উনিশ শতকের শেষে এবং এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে শয়তান আছে ফুরফুরা মেজাজে।
কারণ পৃথিবীতে ইন্টারনেট আবিষ্কার হয়েছে, স্মার্টফোনে বাজারে সয়লাব হয়েছে। আগের যে কোন যুগের তুলনায় তার তিন আস্তানায় ফিরে এসেছে প্রাণ,পেয়েছে কর্মচাঞ্চল্যতা। নবোউদ্যোমে শয়তান বনী আদমকে হাঁকিয়ে চলছে জাহান্নামের অতল গহবরে।
মদ জুয়ার আস্তানায় ঢুঁ মারা সব শ্রেণির সব পেশার সকল শ্রেণির মানুষের জন্য অতটা সহজলভ্য না হলেও তৃতীয়টায় এন্ট্রি পানির মতো সস্তা। শেষ আস্তানায় ঢুকার দরজা চব্বিশ ঘণ্টা খোলা।
ইন্টারনেটে মাত্র একটি শব্দ লিখে দিলেই চিচিং ফাক। ঢুকে যান শয়তানের পাপের সাম্রাজ্য পর্ণ দুনিয়ায়।
বর্তমান দুনিয়ার মানুষ এই আস্তানায় নিয়মিত কি পরিমাণ হাজির হয় তা জানার জন্য ছোট্ট একটি পরিসংখ্যান দিচ্ছি,
বর্তমান দুনিয়ার টোটাল জনসংখ্যা জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী আনুমানিক ৮০৭ কোটি।
মানে ৮ বিলিয়ন। সচরাচর কিছু এ্যাপস সবাই ব্যবহার করে।যেমনঃ ইউটিউব, ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, গুগল মিট,গুগল প্লে গেমস,বিশ্বের জনপ্রিয় এ্যাপস ইউটিউব ইন্সটল করেছে ১০ বিলিয়ন মানুষ ফেইসবুক ইনস্টল করেছে ৫ বিলিয়ন মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ৫ বিলিয়নইনস্টাগ্রাম ৫ বিলিয়ন
অথচ শয়তানের আস্তানায় যথাক্রমে,
১.38.7billion view
২.19.1 billion view
৩.16.3 billion view
৪.11.5 billion view
৫.6.5 billion view
৬.5.5 billion view
কি! মাথা ঘুরায়? এ হচ্ছে অনেকগুলো সাইটের একটা সাইটের টপ লিস্টেড বাকি এক দুই তিন বিলিয়ন ভিউয়ার এগুলো এই আস্তানায় পান্তাভাত।
আর কি চুপ করে থাকা যায় বলুন।নেমে পড়লাম শয়তানের আস্তানা গুঁড়িয়ে ফেলতে।
কিন্তু এত সস্তা গুঁড়িয়ে ফেলা!হ্যাঁ সস্তা, যদি আলস্নাহ পাক সহায় হন। যেভাবে তিনি নমরূদের বিরুদ্ধে ইব্রাহিম আ: এর পক্ষে সহায় হয়েছিলেন।
ফেরাউনের বিরুদ্ধে মুসা আ: এর পক্ষে সহায় হয়েছিলেন। আবু জাহেলদের বিরুদ্ধে নবীজী সা: এর পক্ষে সহায় হয়েছিলেন।সেই আল্লাহ এখনো জীবীত আছেন আমাদেও মত অসহায় বনী আদমকে রড়্গা করতে। তবে আমাদেও কাজ বিশুদ্ধ নিয়তের সাথে লাগাতার চেষ্টা।
এক কথায় আমরণ অনশন।এ যাত্রায় যদি একজন বনী আদমও আমরণ অনশনে বসে শয়তানের আস্তানা থেকে তওবা করে সুপথে ফিরে আসে তবেই আমার এ টুটাফাটা মেহনত স্বার্থক হবে বলে আমার বিশ্বাস।বহুত দিন ধরে এই সমাজের আত্মিক মরণব্যাধি ক্যান্সার নিয়ে লিখব ভাবছি
কিন্তু বিষয় নিয়ে যতবার ভাবি ততবার লাজ লজ্জায় উদিত কলম কালি অস্ত যায়।আমারপরিবার সমাজ কাছের ও দূরের আপনজন যখন দেখবে তাদের ভদ্র লোকটি অশ্লীলতা নিয়ে পর্ণ নিয়ে কি সব নসিহত করছে,গল্প লিখছে তখন তারা চেচিয়ে আহত হবে কেউবা বিনা এ্যটাকে নিহত হবে।
কিন্তু কাছের এক দুইশো মানুষের তিরষ্কারের ভয়ে অফ যাওয়া ভালো লক্ষ্মণ নয়। আমি আমার জনপদ, দেশ ও জাতীকে অন্ধকারে নিমজ্জিত দেখতে পারি না,আমার লজ্জা লাগে,বিবেকের কাছে বারবার পরাস্ত হয়।অবশেষে এক সকাল অথবা বিকেলে কলম ধরলাম,আসমান থেকে সাহায্য অনুভব করলাম।
নিজের অক্ষমতা থেকে তওবা করে নেমে পড়লাম ডুবতে থাকা বনী আদমকে পর্ণ মহামারীর চোরাবালি থেকে টেনে তুলতে। এই সমাজের ঘটে যাওয়া গল্পগুলোপরম যত্নে মাতৃভূমি বাংলায় অতি আদরে লালিত পালিত করে আপনার সামনে পরিবেশন করেছি মাত্র।
তবে শব্দের ঝংকারে বাক্যের অলংকারে গাঁথুনি ও ফিনিশিংয়ে চোখ না বুলিয়ে আপনি বরং দেখুন আপনার অবস্থান কোনটি? ছাত্র-শিক্ষক,চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী,শ্রমজীবী প্রবাসী,নারী-পুরুষ,পিতা-পুত্র,যুবক-বয়ষ্ক, নাকি আপনি কোন আদুরে সন্তানের মা-বাবা? আপনার চিকিৎসা এখানে আছে নাকি আপনাকে আমি অকূল দরিয়ায় ফেলে উঠে এসেছি।
দয়া করে পর্দার আড়ালের আমাকে তালাশ করার ব্যর্থ চেষ্টা না করে আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন।যদি অপরাধী,অসুস্থ হন তাহলে তাওবা করুন,বইয়ে দেয়া ফর্মুলা অনুসরণ করে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করুন।আর যদি হন নিরপরাধ সুস্থ তাহলে এই উম্মাহর জন্য চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে কান্না করুন, অসুস্থ ব্যক্তিদের তালাশ করে সেবা শুশ্রূষা করে সুস্থ করার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ুন।
শয়তানের এই করালগ্রাস থেকে উম্মতকে বাঁচাতে অনেকে চেষ্টা করেছেন এখনো করছেন । এ যাত্রায় যাদের লেখাগুলো প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে রেফারেন্সসহ সে লেখাগুলোও এখানে যুক্ত করা হয়েছে পাঠকের উপকারের কথা চিন্তা করে। আল্লাহ পাক আমাদের সহায় হোন। সবাইকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

0 মন্তব্য রয়েছে