মুরগির আয়েশি আহ্লাদ ও শেয়াল পণ্ডিতের তন্দুরি প্রেম
মুরগির আয়েশি আহ্লাদ ও শেয়াল পণ্ডিতের তন্দুরি প্রেম
মুহাম্মাদ আইয়ুব
আমাদের দেশের মুরগিরা বড্ড বিচিত্র আর আহ্লাদী। তারা শেয়াল পণ্ডিতের ডেরায় গিয়ে কোমর দুলিয়ে নাচবে, নির্জন লিচু বাগানে জ্যোৎস্না বিলাস করবে, এমনকি শেয়ালের কাঁধে মাথা রেখে বাদাম চিবোতে চিবোতে রোমান্টিক আলাপেও মাতবে—ততক্ষণ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক।
কিন্তু বিপত্তি বাধে তখনই, যখন ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলে ওঠে কিংবা সামনে এসে দাঁড়ায় কোনো সাংবাদিক। অমনি আমাদের মুরগি সমাজের 'জাত' নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। যে শেয়াল পণ্ডিতের স্পর্শ আড়ালে পরম সুখের ছিল, প্রকাশ্য দিবালোকে সেই শেয়ালই হয়ে যায় ‘আনস্মার্ট’, ‘অসভ্য’ আর ‘ব্যাড টাচে’ অভ্যস্ত এক খলনায়ক। লোকসমাজে তখন গালিগালাজের তুবড়ি ছোটে।
আমরা সবাই জানি, শেয়াল পণ্ডিতের আদি ও আসল স্বভাব হলো মুরগি নিয়ে 'তন্দুরি' উৎসবে মেতে ওঠা। তবে প্রশ্ন জাগে—যদি লজ্জার এতোই ভয়, তবে বেড়া ডিঙিয়ে শেয়াল মামাকে সেই নিভৃত লিচু বাগানে নিমন্ত্রণ জানানো কেন? পণ্ডিতের সময়, আবেগ আর রোমান্টিক মননের কি কোনোই মূল্য নেই?
দেশি মুরগিদের এই অতিরিক্ত আসক্তি বুঝতে শেয়াল পণ্ডিতের বিন্দুমাত্র সময় লাগে না। তাই তো সাত মহাদেশ পাড়ি দিয়ে, দীর্ঘ চব্বিশ ঘণ্টার ক্লান্তি নিয়ে তিনি সেই ধবধবে সাদা মুরগির দেশ থেকে বারবার আমাদের এই অজপাড়াগাঁয় আস্তানা গড়েন। পণ্ডিতের আগমনে এখানকার মুরগিরা আনন্দে আটখানা হয়, সারাদিন নেচে-গেয়ে বিনোদন দিয়ে তাকে মাতাল করে রাখে। সেও ভালোবেসে ডানা স্পর্শ করে, ঘাড়ের পালকে সোহাগের চিহ্ন আঁকে। আর এই নাচ-গানের মহিমায় প্রতি ঈদে শতকোটি টাকার রাজস্বে দেশের কোষাগার ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
অথচ অদ্ভুত এক জাদুর ছোঁয়ায় সংবাদ সম্মেলনে সেই মুরগিরাই হয়ে যায় প্রচণ্ড সংযমী আর সংবেদনশীল। পণ্ডিত মামা যখন আপন মনে একটু অধিকার খাটাতে যান, অমনি মুরগির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে, মুখখানা শুকিয়ে যায় তপ্ত রোদে রাখা শুঁটকির মতো।
কিন্তু কেন এই লুকোচুরি? দিনের পর দিন যে শেয়ালের সাথে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানো হলো, সংক্ষিপ্ত পোশাকে নেচে-গেয়ে উল্লাস করা হলো—প্রকাশ্যে তাকে অস্বীকার করা কি চরম দ্বিচারিতা নয়?
হে মুরগি সমাজ, এই ভণ্ডামি ছেড়ে বরং সত্যকে মেনে নাও। শেয়াল পণ্ডিতের 'তন্দুরি' হতে সাহায্য করো। মনে রেখো, অভিমানে পণ্ডিত মশাই একবার আকাশে উড়াল দিলে এই খোলা বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগটাও হয়তো তোমরা হারাবে।

0 মন্তব্য রয়েছে