মাদ্রাসা শিক্ষার এপিঠ ওপিঠ
ইদানীং মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষের তুলনায় বিপক্ষ ও বন্ধের আলোচনা চলছে তুমুলভাবে। কিছু আলোচনা যৌক্তিক হলেও ৯৩%অপলাপ ও বিদ্বেষে পূর্ণ।
রাজনৈতিক বা মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে যারা জামাত বিরোধী তারাও মাদ্রাসাকে জামাতের সাথে গুলিয়ে বিরোধিতায় লিপ্ত।
বিষয়টি নিয়ে আজ কিছু লেখা যাক।
১.
লেখালেখির সুবাদে মাওলানা হাসিনুর রহমান( ছদ্মনাম) এর সাথে আমার পরিচয়। অসম্ভব মেধাবী, কর্মঠ,চিন্তাশীল তরুণ আলেম। একটা মাদ্রাসায় খেদমত করেন। বেতন মাসে ১২ হাজার। হ্যাঁ,১২ হাজার টাকা। তারপর ও মাসকে মাস বাকি। আমার কাছে মাঝেমধ্যেই ঋণ চায় কিন্তু নিজেরই লজ্জা লাগে।
বাড়িতে মা-বাবা, স্ত্রী ও সদ্যোজাত সন্তান। এই যে নির্মম বাস্তবতা, এটা হয়তো গুটিকয়েক মানুষ জানে। এ যেন ফিলিস্তিনের আরেক গাজার জীবন। ঐখানের ধ্বংসযজ্ঞ চোখে পড়ে কিন্তু এখানকারটা ভিতরে ভিতরে।
২.
মাদ্রাসা নিয়ে সুশীল সমাজের চিন্তার অন্ত নেই। মিডিয়ার কল্যানে সাদা হয়েছে কালো আর কালো হয়েছে সাদা। সাধু বেচারার পাঠার মতো।
সাধু মশাই বাজারে পাঠা নিয়ে যাচ্ছেন।
দুষ্টু কয়েকজন একত্রিত হয়ে ফন্দি আঁটলো সাধুর হাত থেকে পাঠা ছিনিয়ে পিকনিক করতে হবে। কেমনে? সাধুর পথে তিনজন রাস্তার তিন মোড়ে দাঁড়িয়ে একই কথা বলতে হবে। সাধু মশাই! কুকুর নিয়ে কোথায় যান?
যেমন ভাবনা তেমন কাজ। দুষ্টদের পাল্লায় পড়ে সাধু মশাই পাঠাটা কুকুরভেবে ছেড়ে দিলেন, অমনি খপ।
৩.
বাংলাদেশেও সাধুর হাত থেকে নামে,বেনামে,বদনামে সুস্থ ধারার এ শিক্ষা ছিনিয়ে নেওয়ার উপক্রম।
ফলে একসময় কওমের অনুদানে চলা দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে কওমের গলার কাটা(!)
একসময় যারা স্বেচ্ছায় অনুদান দিত এখন তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সোৎসাহে মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে লেগেছে।
ফলাফল? যারা অল্প বেতনে দ্বীন রক্ষায় কাজ করত তাদের সেই স্বল্প বেতনটাও সময়মতো জুটে না। পরিবারের চাহিদা মেটে না। এই বাস্তবতায় আজ অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী কওমি মাদ্রাসার খেদমত বিমুখ হয়ে ব্যবসা,বিদেশ, ফ্রিল্যান্সিং ও জাগতিক চাকরিতে মনোনিবেশ করছে।
এ দেশের ইঞ্চি ইঞ্চি মাটিতে নিত্য নতুন মসজিদ তৈরী হচ্ছে অপরদিকে মসজিদের ইমামতি করার লোক তৈরী হচ্ছে না।একদিকে চাহিদা বাড়ছে অপরদিকে উৎপাদন বন্ধ।
বিষয়গুলো নিয়ে এখনই ভাবতে হবে,সমাধান বের করতে হবে নইলে আগ্রাসী বিপদ ধেয়ে আসছে।
মুহাম্মাদ আইয়ুব
লেখক,গবেষক,মাদ্রাসা পরিচালক

0 মন্তব্য রয়েছে