ইসলাম ও কাদিয়ানিজম

ইসলাম ও কাদিয়ানিজম

(কাদিয়ানি মতবাদ সম্পর্কে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর প্রশ্নের জবাবে রচিত এক ঐতিহাসিক আলোচনা)

মূল: ডক্টর মুহম্মদ ইকবাল

তরজমা : মুহাম্মাদ হাসিবুল হাসান

ভূমিকা

(উপমহাদেশের বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু বিতর্ক রয়েছে, যেগুলোকে কেবল সাময়িক মতভেদ বা সম্প্রদায়গত বিরোধ বলে ব্যাখ্যা করা যায় না। সেগুলোর অন্তঃসার নিহিত থাকে কোনো জাতির আত্মপরিচয়, বিশ্বাসের ভিত্তি, সভ্যতার দিকনির্দেশ এবং ইতিহাসচেতনার গভীরে। কাদিয়ানিজম বা আহমদিয়ত-প্রশ্ন তেমনই এক বিতর্ক—যা নিছক ধর্মীয় মতপার্থক্যের পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলামের মৌলিক স্বরূপ, নবুওয়তের চূড়ান্ততা, মুসলিম সত্তার সীমারেখা এবং আধুনিক যুগে ধর্মীয় পুনর্ব্যাখ্যার বৈধতা—এই সবকিছুর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট।

এই আলোচনার ঐতিহাসিক তাৎপর্য আরও বেড়ে যায় এ কারণে যে, এটি এমন এক সময়ের দলিল, যখন ভারতবর্ষে মুসলিম সমাজ একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে আত্মিক ও তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করছিল। ঔপনিবেশিক আধিপত্য, সভ্যতাগত সংকট, ধর্মীয় পুনর্জাগরণ, আত্মসমালোচনা এবং আত্মরক্ষার নানা প্রবণতা তখন মুসলিম মনোজগতে এক জটিল আবহ তৈরি করেছিল। সেই আবহে কাদিয়ানিজমের উত্থান কেবল একটি নতুন সম্প্রদায়ের জন্ম ছিল না; বরং তা মুসলিম সমাজের বিশ্বাস-সংকট, পরিচয়-সংকট এবং আধুনিকতার সঙ্গে তার টানাপোড়েনকে নতুনভাবে উন্মোচিত করেছিল।

এই পটভূমিতে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু’র (১৮৮৯-১৯৬৪) কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ তিনি এই প্রশ্নকে নিছক বাহ্যিক রাজনৈতিক ঘটনারূপে দেখেননি; বরং এর অন্তর্নিহিত আত্মিক ও বৌদ্ধিক অভিঘাত বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। আর সেই কারণেই ডক্টর মুহম্মদ ইকবালের (১৮৭৭-১৯৩৮) এই প্রতিক্রিয়া কেবল একটি মতবাদের সমালোচনা নয়; এটি একই সঙ্গে মুসলিম আত্মসচেতনতার একটি গভীর দলিল, যেখানে বিশ্বাস, ইতিহাস, সমাজমনস্তত্ত্ব এবং সভ্যতাগত আত্মরক্ষার প্রশ্ন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

নিম্নে উপস্থাপিত অংশে ইকবাল প্রথমেই ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন—আহমদিয়ত সম্পর্কে ভারতীয় মুসলমানদের অবস্থান কী, কেন সেই অবস্থান গড়ে উঠেছে, এবং এই প্রশ্নে ইসলামের ভেতরে কোন মৌলিক নীতিকে তিনি কেন্দ্রীয় বলে বিবেচনা করেন। অতএব, এই লেখা পাঠের সময় এটিকে কেবল একটি ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্ক হিসেবে নয়, বরং মুসলিম চিন্তার ইতিহাসে আত্মপরিচয় ও সত্য-সীমার এক মৌলিক পর্যালোচনা হিসেবে পাঠ করাই অধিক সমীচীন।—অনুবাদক)

আরও পড়ুন...

0 মন্তব্য রয়েছে

একটি মন্তব্য করুন

চিন্তা করবেন না! আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

জনপ্রিয় ব্লগ

বিভাগ

সর্বশেষ ব্লগ