ঢাকায় একদিন
ঢাকায় একদিন
শশুরবাড়ির শীতের পিঠা দিয়ে দিন শুরু হল।
সকালের ঘুম সেই আপদ জীবন থেকে কবে যাবে কে জানে?
ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দিতে ১০ টা বেজে গেল।
বড় ছেলেকে চমকে দিয়ে আমি ও ওর আম্মু মাদ্রাসার গেইটে হাজির।
আফফান, জিহাদ,ইউসুফকে নিয়ে গন্তব্য উত্তরা কামাল ভাইয়ের বাসা।
মেট্রোরেলে উত্তরা উত্তরে আসতে বিকেল ০৩টা।
ভাবি কিছুক্ষণ পর পর ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, কতদূর আছি?
ভাগ্যিস মেট্রোরেল জগতে আলোর মুখ দেখেছিল নইলে উত্তরায় দুপুরের খাবার?
কামাল ভাইয়ের নতুন বাসা
zaman's residence এক কথায় অসাধারণ। সবকিছু কাঁচের মতো স্বচ্ছ ঝকঝকে।
ছোট্ট পরিসর কিন্তু রুচি আর বৈচিত্র্যে এক টুকরো জান্নাত মাশাআল্লাহ।
ওয়াশরুমে চীরচেনা সেই বিপত্তি।
ধনীদের বাসার ফিটিংস আমাদের মতো গ্রাম্যদের বিড়ম্বনার পুরনো অধ্যায়। পানির কল দেখা যায় কিন্তু পানি আর আসে না।
কোথায় টিপ দিব পানি কোত্থেকে আসবে হৈচৈ দশা।
এ নিয়ে জামাই বউ অনেকক্ষণ ফিসফিসিয়ে হাসাহাসি করলাম।
৪র্থ ফ্লোরে আমি উম্মে আফফান ও ছোট্ট হুজুরদের নিয়ে খেতে বসলাম,রীতিমতো বুফে। উনাইসা সাওবান চেয়ারে দাড়িয়ে খেল চেয়ারে বসে টেবিল পর্যন্ত মুখ যায় না। নামাজ পড়ে বিশ্রাম নিতে তলিয়ে গেলাম। আরামের বেড ইবাদাতের জন্য আমি অলসের ক্ষেত্রে অনেক বড় বাঁধা।
আসর বাসায় আদায় করে
ফারাজের নানুর কবর জিয়ারত করতে গেলাম ছোট্ট হুজুরদের নিয়ে। উত্তরার এই জায়গূয় রাস্তাঘাট এখনো সিঙ্গাপুর হয়নি। তাই গ্রাম গ্রাম ফিল হচ্ছিল।
১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানটা উন্নয়নের মহাসড়কে পা রাখতে পারেনি।
দোআ পড়ে ভিতরে ঢুকলাম। ঘাস আর পাতাবাহারের গাছ দিয়ে প্রতিটি কবর ঘেরাও দেওয়া। আল্লাহ পাক ভিতরের ব্যক্তিদেরকেও জান্নাতি বাগানের বাসিন্দা বানিয়ে নিন।
বাস্তবতা হল,দুনিয়ার চাকচিক্য কবরের ভয় ও আতংকের উপর আস্তরণ ফেলে দিয়েছে আফসোস।
কবরস্থানের ডানদিকের শেষ মাথায় নির্দিষ্ট কবরের শিউরে এসে দাঁড়ালাম।সবাই মিলে সূরা কেরাত, দরুদ শরীফ পড়ে দোআ করলাম।
সান্ধ্যকালীন নাস্তা হিসেবে পিৎজা ফলমূল, কেক ও চা দেওয়া হল।
রাতে উরবি আমাদের জন্য খাবার অর্ডার করেছিল কিন্তু সময়ের অভাবে ওর মন রক্ষা করা গেল না।
ফেরার সময় মিসেস কামরুজ্জামান ভাবি বাচ্চাদের দামী চকলেট ও এক হাজার টাকার নোটে চমকে দিলেন।
উনাইসা বলে উঠল, এত টাকা দিয়ে কি করব? বাচ্চাদের মন খুশিতে ভরিয়ে তুলতে ভাবির জুড়ি মেলা ভার।
মেট্রোরেল আর হাতিরঝিলের কল্যানে অল্প সময়ে দারুণ যাতায়াত হল মাশাআল্লাহ।
উন্নয়নের কারণে শেখ হাসিনা সরকার সব দিন ধন্যবাদ পেয়ে থাকবে যদিও মন্দ কাজ মানুষ বেশি মনে রাখে।
মানুষের লাজ লজ্জা অনেকটা কমে গেছে বিশেষ করে ছেলে মেয়েদের।
ওদের অভিধানে আজকাল ঘরে বাইরে বলতে কিছু নেই। ঢাকা আগের থেকে অনেক বেশি কৃত্রিম এবং মার্কেট হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে।
অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, ব্যানার ফেস্টুন পোস্টারের হৈচৈ
বনশ্রী মেঝ ভাইয়ের বাসায় সবাইকে নামিয়ে আমি ছুটলাম বাইতুল মুকাররম পানে।
আন্তর্জাতিক কেরাত সংস্থা বাংলাদেশের উদ্যোগে চলছে আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলন।
সাকফি ভাইকে নিয়ে সেখানটায় চলে গেলাম।
পথে থাকাবস্থায় শিশু কারী রেজা পুরসাফারের তেলাওয়াত শুনলাম,কলিজা জুড়িয়ে যাওয়া তেলাওয়াত কিন্তু মোটে ৩ আয়াত ভাগে পেলাম।
তড়িঘড়ি করে উত্তর গেইট দিয়ে মসজিদে ঢুকে দেখি ইরানের সুবিখ্যাত মাহফিল টিভি শো এর প্রধান,জগদ্বিখ্যাত কারী শায়খ হামেদ শাকের নেজাদ লেকচার দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক কুরআনের,এই জমিন কুরআনের ইত্যাদি দারুণ দারুণ কথা বলছিলেন আর দর্শকরা নারায়ে তাকবিরে মসজিদ প্রকম্পিত করছিলেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হল,যিনি কুরআনের আলোচনা করছিলেন তার সাড়ে তিন হাত বডি দেখে উপায় নেই ইনি হলিউড থেকে আসছেন নাকি বলিউডের নায়ক?
এরপর তিনি কেরাত শুরু করলেন কিন্তু কি আশ্চর্য!
কেরাত তো অনেক শুনলাম কিন্তু কারী বাসেতের ফ্লেভার আসে না।
তারপর একে একে মিশর, ইরানের কারীরা মঞ্চ মাতালেন।
১০ঃ৪৫ মিনিটে বাইতুল মুকাররম থেকে বিদায় নিলাম।
মেঝ ভাইয়ের বাসায় রাতের বাহারি খাবার ও তাঁর মাদ্রাসা অফিসে চা চক্র শেষ করে রাত ১১ টা ৪৮ মিনিটে।
মালিবাগ সিরাজী ভাইয়ের স্বাধীনতার বার্তা নিউজ অফিসে রওনা দিলাম।
আসতে আসতে রাত বারোটা আঠারো মিনিট।
সাকফি ভাইয়ের নেতৃত্বে আমি ও আবুদ্দারদা নতুন এক মিটিংয়ে যোগ দিলাম।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাঙালি মুসলিম কমিউনিটির কোমলমতি বাচ্চাদের আরবি সিলেবাস প্রণয়নের জন্য।
শায়খ ফয়জুল্লাহ আমান সাহেব তাঁর হাতেগড়া শিষ্যদের হাতে কাজটি তুলে দিয়েছেন।
ঘন্টাখানেক আলোচনা হল।
নিজেকে আর স্থির রাখতে না পেরে ঘুমের কাছে সঁপে দিলাম।
দিনলিপি ২০-১১-২৫

0 মন্তব্য রয়েছে